গত কয়েকদিন আগে আমরা পরিবারের সবাই মিকে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন দ্বীপে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে কক্সবাজার চট্রগ্রাম হাইওয়েতে সবাই মিলে ইনানী রিসোর্টে রাতের খাবার খেয়েছিলাম। সেখানে এমন একটা রান্না দেখেছিলাম। মুরগীর মাংস চাওয়াতে আমাদের পরিবেশন করা হয়েছিল, কিন্তু পরিবেশিত মুরগীর মাংসে ডিম দেখে কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। পরে আমি খাবার পরিবেশন কারীর সাথে কথা বলা যা বুঝতে পেরেছিলাম টা হচ্ছে, এই ডিম সিদ্ধ মুরগীর মাংসের সাথে রান্না হয় এবং এভাবেই পরিবেশন করা হয় (ছবি তুলতে পারি নাই)। যাই হোক পরে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, রান্নাটা বাসায় করে দেখবো।
আজ বাসায় সেই সুযোগ পেয়ে যাই। আমি একা বাসায় থাকায়, রান্নাটা করে ফেললাম। ডিম ও মুরগীর রান্না একসাথে এটা অনেকে দেখে থাকতে পারেন। চলুন কথা না বলে রান্না দেখে নেই। অভ্যাস বশত কিছুটা কম মশলা ব্যবহার করেছি! ওদের রান্নাটা আরো কিছুটা কালচে হয়েছিল, হয়ত জিরা গুড়া আমার চেয়ে বেশী ব্যবহার করেছিল বা আমার মত মিশানো রান্না না করে আগে ঝোল বানিয়ে রান্না করেছিল। যাই হোক, আগেই বলে নেই, খেতে মন্দ লাগে নাই, দারুন। অবশ্য নিজের রান্না নিজের কাছে সব সময়েই ভাল লাগে! হা হা হা।
পরিমান ও উপকরনঃ
— মুরগীর মাংস, এক কেজি বা কম
– পেঁয়াজ কুঁচি, হাফ কাপ
– রসুন দেশী, দুই চা চামচ
– আদা দেশি, দেড় চা চামচ
– মরিচ গুড়া, এক চা চামচ
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচ
– জিরা গুড়া, হাফ চা চামচ
– ধনিয়া গুড়া, হাফ চা চামচ
– তেল (১/৪ কাপ বা বুঝে), আমি তেল কমে রান্না করেছিলাম
– দারুচিনি, ৪/৫ টা, হাফ ইঞ্চি
– ৪/৫ টা এলাচি
– কয়েকটা তেজপাতা
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ, ঝাল বুঝে
– লবন (লবন প্রথম চোটে কম দিবেন, পরে লাগলে দিবেন)
– গরম পানি, এক কাপ (রান্নার মাঝামাঝি সময়ে)
— মুরগীর মাংস, এক কেজি বা কম
– পেঁয়াজ কুঁচি, হাফ কাপ
– রসুন দেশী, দুই চা চামচ
– আদা দেশি, দেড় চা চামচ
– মরিচ গুড়া, এক চা চামচ
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচ
– জিরা গুড়া, হাফ চা চামচ
– ধনিয়া গুড়া, হাফ চা চামচ
– তেল (১/৪ কাপ বা বুঝে), আমি তেল কমে রান্না করেছিলাম
– দারুচিনি, ৪/৫ টা, হাফ ইঞ্চি
– ৪/৫ টা এলাচি
– কয়েকটা তেজপাতা
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ, ঝাল বুঝে
– লবন (লবন প্রথম চোটে কম দিবেন, পরে লাগলে দিবেন)
– গরম পানি, এক কাপ (রান্নার মাঝামাঝি সময়ে)
– ডিম, সিদ্ধ, ৪ টা
প্রনালীঃ
মাখানো প্রদ্ধতিতে রান্নাঃ

ডিম ও পানি ছাড়া উপরে উল্লেখিত সব কিছু দিয়ে দিলাম যে পাত্রে রান্না করবো সেই পাত্রেই। মুরগীর মাংস ছোট করে কেটে ভাল করে ধুয়ে নিয়েছি। (সময় বাঁচানোর জন্য আমি এমনি রান্না করে থাকি)
মাখানো প্রদ্ধতিতে রান্নাঃ
ডিম ও পানি ছাড়া উপরে উল্লেখিত সব কিছু দিয়ে দিলাম যে পাত্রে রান্না করবো সেই পাত্রেই। মুরগীর মাংস ছোট করে কেটে ভাল করে ধুয়ে নিয়েছি। (সময় বাঁচানোর জন্য আমি এমনি রান্না করে থাকি)
ভাল করে মাখিয়ে মিনিট ২০ রেখে দিয়েছিলাম।
ডিম সিদ্ধঃ

ডিম সামান্য লবন পানিতে সিদ্ধ করে করে নিলাম। পানি এক বার ফুটে উঠাতেই নামিয়ে ফেলেছি!
ডিম সামান্য লবন পানিতে সিদ্ধ করে করে নিলাম। পানি এক বার ফুটে উঠাতেই নামিয়ে ফেলেছি!
এবার ডিম গুলো ছিলে এভাবে রেখে দিয়েছিলাম।
রান্নাঃ

মাঝারি আঁচে ঢাকনা দিয়ে রান্না শুরু করলাম।
মাঝারি আঁচে ঢাকনা দিয়ে রান্না শুরু করলাম।
চুলার ধার ছেড়ে যাই নি। মাঝে মাঝে ঢাকনা খুলে নাড়িয়ে দিয়েছি।
মিনিট ২০ পরে এই অবস্থায় এসেছিল।
ঝোল কম এবং মাংস আর একটু মজলে ভাল হবে মনে করে এক কাপ গরম পানি দিয়ে ছিলাম।
কিছু পরেই এই অবস্থায় এসে গিয়েছিল।
এবার ডিম গুলোতে আঁচ কেটে নিয়ে দিয়ে দিলাম।
ভাল করে মিশিয়ে নিলাম। আরো মিনিট ৩/৪ ফুল আগুনের আঁচে ঢেকে গরম করলাম এবং ফাইন্যাল লবন দেখে নিয়ে (সামান্য লবন লেগেছিল) চুলা বন্ধ করে কিছুক্ষন ঢেকে রাখলাম।
ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত!
এই হচ্ছে টেবিলে নিয়ে আসা! আমি যেহেতু একাই ছিলাম!
অসাধারন, সত্যি এর স্বাদ অনেক দিন ভুলা যাবে না! হোটেলের চেয়ে আরো বেশী স্বাদের মনে হয়েছিল। আমি গরম ধোঁয়া উঠা ভাতের সাথে খেয়েছি। খেতে বসে বার বার মনে হয়েছিল, আমার বড় ছেলে থাকলে নিশ্চয় কথা বন্ধ হয়ে যেত (আমার রান্না করা স্বাদের খাবারে সে সাধারণত কথা বন্ধ করে দেয়), হা হা হা!
সবাইকে শুভেচ্ছা। রান্নাটা করে দেখার আমন্ত্রন জানিয়ে গেলাম, আশা করছি আপনাদের হাতের কাছে এই সব উপকরন আছেই।
Post a Comment