যারা ঢাকা শহরে রাস্তার ধরে আমার মত অযথা ঘুরাঘুরি করেন তাদের চোখে নানান প্রকারের খাবার চোখে পড়বেই। বিশেষ করে যারা রাজনৈতিক অফিসের ধারে কাছে ঘুরেন বা অফিস আছে তাদের চোখে সেই আদি আমল থেকে একটা বিশেষ খাবার নিশ্চয় চোখে পড়েছে, হ্যাঁ আমি আমাদের রাস্তার ধারের বার্গারের কথা বলছি। এই ধরনের বার্গার অনেক দিন আগে থেকেই আমাদের রাস্তা ঘাটে পাওয়া যাচ্ছে, বিশেষ করে মতিঝিল, গুলিস্থান এবং নয়া পল্টনের রাস্তা গুলোতে দুপুর থেকেই এই বার্গার পাওয়া যাচ্ছে।
আমি এই বার্গার দুইবার খেয়েছি। বেশ কয়েক বছর আগে একবার এবং কয়েকদিন আগে আর একবার! প্রথম বার এবং দ্বিতীয় বার একই কৌশলে বানানো দেখেছি। এবার সুযোগ পেয়ে রেকোর্ড করে ফেলেছি এবং তা আপনাদের কাছে হাজির করছি। তবে এই রেসিপি আপনাদের রাস্তার ধারে গিয়ে খাবার জন্য নয়, এটা আপনি চাইলে বাসায় খুব সহজেই বানিয়ে নিতে পারেন (ঘরে কম ঝাল দিয়ে শিশুদের জন্য বিকালের নাস্তা হিসাবে ভাল খাবার হতে পারে)। রাস্তার ধারের খাবার আমরা খাই বটে তবে আমার কাছে এটা কখনোই হাইজেনিক মনে হয় না। যারা এই সকল খাবার বানিয়ে থাকেন তারা পরিস্কার থাকতে চাইলে পারেন বলে মনে হয় না! ধুলা বালু এবং খারাপ পানির ব্যবহার হারামেশাই চলে! এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক এবং বেদনাহত ব্যাপার।
যাই হোক চলুন, রেসিপি দেখি। রেসিপি প্রকাশে অনুমতি আছে! হা হা হা, আমাদের সদ্দাম মিয়া খুব রসিক মানুষ, অনুমতি ও তার ছবি ছাপাবো জানতেই এক গাল হাসি দিয়ে বললেন, দিয়েন। তবে তিনি তিন ধরনের বার্গার বিক্রি করেন ১) এগ বার্গার ২) কাবাব বার্গার ৩) এগ এবং কাবাব মিক্স বার্গার। এগ বার্গার দেখলেই অন্য বার্গার গুলোর আন্ধাজ করতে পারবেন।
উপকরনঃ (ছবি দেখে পরিমান বুঝে নিতে পারবেন)
– ব্রেড
– ডিম
– পেঁয়াজ কুঁচি
– কাঁচা মরিচ কুঁচি
– মরিচ সস
– টমেটো সস
– শসা স্লাইস
– লবন
– তেল, দুই চামচ
– ব্রেড
– ডিম
– পেঁয়াজ কুঁচি
– কাঁচা মরিচ কুঁচি
– মরিচ সস
– টমেটো সস
– শসা স্লাইস
– লবন
– তেল, দুই চামচ
প্রস্তুত প্রনালীঃ

তেল গরম

তেল গরম

ডিমে সামান্য লবন, পেঁয়াজ, মরিচ কুঁচি দিয়ে গুলিয়ে গরম তেলে ভেঁজে নিতে হবে।

ভাঁজা হলে তুলে রাখতে হবে।

ব্রেড গুলো কেটে দুইভাগ করে গরম করতে হবে।

ব্রেডের নীচের অংশ একটু ভাল গরম করে নিতে হবে।

এর পর প্রথমে ডিম ভাঁজা, তার উপরে আবারো পেঁয়াজ কুঁচি ও কিছু মরিচ কুঁচি ছিটিয়ে দিতে হবে (কাষ্টমারের ঝাল ইচ্ছানুযায়ী)।

আবার কাঁচা মরিচ সস, এটাতে একটু তেতুল টক পাওয়া যায় ফলে স্বাদ ভাল হয়।

টেমেটো সস।

শষা।

ব্রেডের উপরি অংশ গরম করে নিতে হবে।

ব্যস, হয়ে গেল।

প্যাকেটে পরিবেশন, যারা অন্যত্র নিয়ে খেতে চান।

বাহ।

এই হচ্ছেন আমাদের সাদ্দাম মিয়া, এক সময়ে ওস্তাদের কাছে থেকে বানানো দেখেছেন এবং নানান ফুটফরমায়েস খাটতেন। এখন নিজেই কারিগর হয়ে গেছেন, তবে এটা তার নিজের দোকান নয়, অন্যের দোকানে এখনো কাজ করেন। আশা আছে ভবিষ্যতে এমন একটা দোকান নিজের হবে, তার বানানো বার্গার গুলোর নাম দিবেন, সাদ্দাম’স বার্গার।
আমি এই তরুণের সাফল্য কামনা করি।
সবাইকে শুভেচ্ছা।
Post a Comment