যারা সকালের নাস্তায় সবজি পছন্দ করেন তাদের জন্য আমাদের আজকের এই সীম ভাঁজি। খুব সহজ এবং সাধারন কাজ। রুটির সাথে বেশ ভাল লাগবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আশা করি একদিন বানিয়ে খেয়ে দেখতে পারেন। আগেই বলে দেই, চাইলে সামান্য আলু কেটেও দিতে পারেন। চলুন দেখে ফেলি।
পরিমান ও উপকরনঃ
– কিছু সীম (কুঁচি করে নিন)
– পেঁয়াজ কুঁচি, পেঁয়াজে মজা বাড়ে
– মরিচ গুড়া, দুই চিমটি (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়া, দুই চিমটি
– চিনি, এক চিমটি
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ
– তেল, কয়েক টেবিল চামচ, কম তেলেই রান্না করতে পারেন
– লবন, স্বাদ মত
– পানি, পরিমান মত
– ধনিয়া পাতার কুঁচি
প্রনালীঃ 
সীম প্রিপারেশনঃ

সীম কাটার আগে কিছু সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখা উত্তম। এতে পোকা মাকড় থাকলে বের হয়ে যায়, সীমের ভিতরে পোকা থাকা অস্বাভাবিক নয়!

হাত বা ছুরি সাইড কেটে এভাবে সীমের দুই পাশ ফেলে সাইডের আঁশ তুলে নিন।

এভাবে সীম কুঁচি করে নিন।
মুল রান্নাঃ

তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুঁচি, মরিচ এবং লবন দিয়ে ভাঁজুন।

ভাঁজুন।

হলুদ ও মরিচ দিন, ভাঁজুন।

ভাঁজুন।

এবার সীম দিয়ে দিন।

ভাল করে মিশিয়ে নিন এবং এক চিমটি চিনি ছিটিয়ে দিন।

সামান্য হাফ কাপ পানি দিন এবং আগুনের আঁচ কমিয়ে দিন।

এবার ঢেকে রাখুন এবং মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দিবেন। চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না!

মিনিট ১৫ পর এমন দেখাবে, ফাইন্যাল লবন স্বাদ দেখুন, লাগলে দিন।

ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত! ধনিয়া পাতার কুঁচি দিতে পারেন।

রুটি দিয়ে জম্বে বেশ! একদিন রান্না করে দেখুন।
সবাইকে শুভেচ্ছা।

গত কয়েকদিন আগে আমরা পরিবারের সবাই মিকে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন দ্বীপে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে কক্সবাজার চট্রগ্রাম হাইওয়েতে সবাই মিলে ইনানী রিসোর্টে রাতের খাবার খেয়েছিলাম। সেখানে এমন একটা রান্না দেখেছিলাম। মুরগীর মাংস চাওয়াতে আমাদের পরিবেশন করা হয়েছিল, কিন্তু পরিবেশিত মুরগীর মাংসে ডিম দেখে কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। পরে আমি খাবার পরিবেশন কারীর সাথে কথা বলা যা বুঝতে পেরেছিলাম টা হচ্ছে, এই ডিম সিদ্ধ মুরগীর মাংসের সাথে রান্না হয় এবং এভাবেই পরিবেশন করা হয় (ছবি তুলতে পারি নাই)। যাই হোক পরে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, রান্নাটা বাসায় করে দেখবো।
আজ বাসায় সেই সুযোগ পেয়ে যাই। আমি একা বাসায় থাকায়, রান্নাটা করে ফেললাম। ডিম ও মুরগীর রান্না একসাথে এটা অনেকে দেখে থাকতে পারেন। চলুন কথা না বলে রান্না দেখে নেই। অভ্যাস বশত কিছুটা কম মশলা ব্যবহার করেছি! ওদের রান্নাটা আরো কিছুটা কালচে হয়েছিল, হয়ত জিরা গুড়া আমার চেয়ে বেশী ব্যবহার করেছিল বা আমার মত মিশানো রান্না না করে আগে ঝোল বানিয়ে রান্না করেছিল। যাই হোক, আগেই বলে নেই, খেতে মন্দ লাগে নাই, দারুন। অবশ্য নিজের রান্না নিজের কাছে সব সময়েই ভাল লাগে! হা হা হা।
পরিমান ও উপকরনঃ
— মুরগীর মাংস, এক কেজি বা কম
– পেঁয়াজ কুঁচি, হাফ কাপ
– রসুন দেশী, দুই চা চামচ
– আদা দেশি, দেড় চা চামচ
– মরিচ গুড়া, এক চা চামচ
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচ
– জিরা গুড়া, হাফ চা চামচ
– ধনিয়া গুড়া, হাফ চা চামচ
– তেল (১/৪ কাপ বা বুঝে), আমি তেল কমে রান্না করেছিলাম
– দারুচিনি, ৪/৫ টা, হাফ ইঞ্চি
– ৪/৫ টা এলাচি
– কয়েকটা তেজপাতা
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ, ঝাল বুঝে
– লবন (লবন প্রথম চোটে কম দিবেন, পরে লাগলে দিবেন)
– গরম পানি, এক কাপ (রান্নার মাঝামাঝি সময়ে)
– ডিম, সিদ্ধ, ৪ টা
প্রনালীঃ 
মাখানো প্রদ্ধতিতে রান্নাঃ

ডিম ও পানি ছাড়া উপরে উল্লেখিত সব কিছু দিয়ে দিলাম যে পাত্রে রান্না করবো সেই পাত্রেই। মুরগীর মাংস ছোট করে কেটে ভাল করে ধুয়ে নিয়েছি। (সময় বাঁচানোর জন্য আমি এমনি রান্না করে থাকি)

ভাল করে মাখিয়ে মিনিট ২০ রেখে দিয়েছিলাম।
ডিম সিদ্ধঃ

ডিম সামান্য লবন পানিতে সিদ্ধ করে করে নিলাম। পানি এক বার ফুটে উঠাতেই নামিয়ে ফেলেছি!

এবার ডিম গুলো ছিলে এভাবে রেখে দিয়েছিলাম।
রান্নাঃ

মাঝারি আঁচে ঢাকনা দিয়ে রান্না শুরু করলাম।

চুলার ধার ছেড়ে যাই নি। মাঝে মাঝে ঢাকনা খুলে নাড়িয়ে দিয়েছি।

মিনিট ২০ পরে এই অবস্থায় এসেছিল।

ঝোল কম এবং মাংস আর একটু মজলে ভাল হবে মনে করে এক কাপ গরম পানি দিয়ে ছিলাম।

কিছু পরেই এই অবস্থায় এসে গিয়েছিল।

এবার ডিম গুলোতে আঁচ কেটে নিয়ে দিয়ে দিলাম।

ভাল করে মিশিয়ে নিলাম। আরো মিনিট ৩/৪ ফুল আগুনের আঁচে ঢেকে গরম করলাম এবং ফাইন্যাল লবন দেখে নিয়ে (সামান্য লবন লেগেছিল) চুলা বন্ধ করে কিছুক্ষন ঢেকে রাখলাম।

ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত!

এই হচ্ছে টেবিলে নিয়ে আসা! আমি যেহেতু একাই ছিলাম!

অসাধারন, সত্যি এর স্বাদ অনেক দিন ভুলা যাবে না! হোটেলের চেয়ে আরো বেশী স্বাদের মনে হয়েছিল। আমি গরম ধোঁয়া উঠা ভাতের সাথে খেয়েছি। খেতে বসে বার বার মনে হয়েছিল, আমার বড় ছেলে থাকলে নিশ্চয় কথা বন্ধ হয়ে যেত (আমার রান্না করা স্বাদের খাবারে সে সাধারণত কথা বন্ধ করে দেয়), হা হা হা!
সবাইকে শুভেচ্ছা। রান্নাটা করে দেখার আমন্ত্রন জানিয়ে গেলাম, আশা করছি আপনাদের হাতের কাছে এই সব উপকরন আছেই।

যারা ঢাকা শহরে রাস্তার ধরে আমার মত অযথা ঘুরাঘুরি করেন তাদের চোখে নানান প্রকারের খাবার চোখে পড়বেই। বিশেষ করে যারা রাজনৈতিক অফিসের ধারে কাছে ঘুরেন বা অফিস আছে তাদের চোখে সেই আদি আমল থেকে একটা বিশেষ খাবার নিশ্চয় চোখে পড়েছে, হ্যাঁ আমি আমাদের রাস্তার ধারের বার্গারের কথা বলছি। এই ধরনের বার্গার অনেক দিন আগে থেকেই আমাদের রাস্তা ঘাটে পাওয়া যাচ্ছে, বিশেষ করে মতিঝিল, গুলিস্থান এবং নয়া পল্টনের রাস্তা গুলোতে দুপুর থেকেই এই বার্গার পাওয়া যাচ্ছে।
আমি এই বার্গার দুইবার খেয়েছি। বেশ কয়েক বছর আগে একবার এবং কয়েকদিন আগে আর একবার! প্রথম বার এবং দ্বিতীয় বার একই কৌশলে বানানো দেখেছি। এবার সুযোগ পেয়ে রেকোর্ড করে ফেলেছি এবং তা আপনাদের কাছে হাজির করছি। তবে এই রেসিপি আপনাদের রাস্তার ধারে গিয়ে খাবার জন্য নয়, এটা আপনি চাইলে বাসায় খুব সহজেই বানিয়ে নিতে পারেন (ঘরে কম ঝাল দিয়ে শিশুদের জন্য বিকালের নাস্তা হিসাবে ভাল খাবার হতে পারে)। রাস্তার ধারের খাবার আমরা খাই বটে তবে আমার কাছে এটা কখনোই হাইজেনিক মনে হয় না। যারা এই সকল খাবার বানিয়ে থাকেন তারা পরিস্কার থাকতে চাইলে পারেন বলে মনে হয় না! ধুলা বালু এবং খারাপ পানির ব্যবহার হারামেশাই চলে! এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক এবং বেদনাহত ব্যাপার।
যাই হোক চলুন, রেসিপি দেখি। রেসিপি প্রকাশে অনুমতি আছে! হা হা হা, আমাদের সদ্দাম মিয়া খুব রসিক মানুষ, অনুমতি ও তার ছবি ছাপাবো জানতেই এক গাল হাসি দিয়ে বললেন, দিয়েন। তবে তিনি তিন ধরনের বার্গার বিক্রি করেন ১) এগ বার্গার ২) কাবাব বার্গার ৩) এগ এবং কাবাব মিক্স বার্গার। এগ বার্গার দেখলেই অন্য বার্গার গুলোর আন্ধাজ করতে পারবেন।
উপকরনঃ (ছবি দেখে পরিমান বুঝে নিতে পারবেন)
– ব্রেড
– ডিম
– পেঁয়াজ কুঁচি
– কাঁচা মরিচ কুঁচি
– মরিচ সস
– টমেটো সস
– শসা স্লাইস
– লবন
– তেল, দুই চামচ
প্রস্তুত প্রনালীঃ

তেল গরম

ডিমে সামান্য লবন, পেঁয়াজ, মরিচ কুঁচি দিয়ে গুলিয়ে গরম তেলে ভেঁজে নিতে হবে।

ভাঁজা হলে তুলে রাখতে হবে।

ব্রেড গুলো কেটে দুইভাগ করে গরম করতে হবে।

ব্রেডের নীচের অংশ একটু ভাল গরম করে নিতে হবে।

এর পর প্রথমে ডিম ভাঁজা, তার উপরে আবারো পেঁয়াজ কুঁচি ও কিছু মরিচ কুঁচি ছিটিয়ে দিতে হবে (কাষ্টমারের ঝাল ইচ্ছানুযায়ী)।

আবার কাঁচা মরিচ সস, এটাতে একটু তেতুল টক পাওয়া যায় ফলে স্বাদ ভাল হয়।

টেমেটো সস।

শষা।

ব্রেডের উপরি অংশ গরম করে নিতে হবে।

ব্যস, হয়ে গেল।

প্যাকেটে পরিবেশন, যারা অন্যত্র নিয়ে খেতে চান।

বাহ।

এই হচ্ছেন আমাদের সাদ্দাম মিয়া, এক সময়ে ওস্তাদের কাছে থেকে বানানো দেখেছেন এবং নানান ফুটফরমায়েস খাটতেন। এখন নিজেই কারিগর হয়ে গেছেন, তবে এটা তার নিজের দোকান নয়, অন্যের দোকানে এখনো কাজ করেন। আশা আছে ভবিষ্যতে এমন একটা দোকান নিজের হবে, তার বানানো বার্গার গুলোর নাম দিবেন, সাদ্দাম’স বার্গার।
আমি এই তরুণের সাফল্য কামনা করি।
সবাইকে শুভেচ্ছা।

আমি বলেই যাচ্ছি, রান্না/খাবার দাবার হচ্ছে দুনিয়ার একটা বড় ভালবাসা। এই ভালবাসার চেয়ে আর কি বড় হতে পারে! প্রমান চান, হা হা হা। তা হলে আপনি যাকে ভালবাসেন, তাকে একটা রুমে ২৪ ঘন্টা আটকে রাখুন, খাবার দানাপানি দেবার দরকার নেই। এবার ২৫তম ঘন্টায় দরজা না খুলে জানালা দিয়ে তাকে কিছু কথা জিজ্ঞেস করুন, দেখুন তিনি কি উত্তর দেন! খাবারের বিনিময়ে যা বলবেন বেচারা তাই স্বীকার করবেই! হা হা হা…  আর সেই সময়ে খাবার পেলে তিনি কি করে খাবেন বা খেয়ে উঠে তিনি কি বলেন সেটা লক্ষ রাখুন! তাই কি আর সাধে বলি মশাই! এছাড়া আরো উদাহরন দেয়া যেত, আগের দিনের সিনেমা গুলোতে প্রেমিক/প্রেমিকা দেখা করতে গেলে প্রেমিকা খাবার বানিয়ে নিত, আহ কি আহল্লাদ! এখন অবশ্য প্রেমিক/প্রেমিকার দেখা হয় হোটেল/রেষ্টুরেন্টেই!
যাই হোক, শীত বা বৃষ্টির দিনে আমাদের সবাইকে খিচুড়ি এবং ভুনা গোস্ত খেতে ইচ্ছা করে, এটা অবশ্য আমাদের বাঙ্গালী/বাংলাদেশীদের একটা কমন স্বভাব! এই খাবারের স্বভাবের সাথে একটু সালাদ না হলে কি জমে? চলুন খুব সহজ তবে মজাদার একটা সালাদ আপনাদের দেখিয়ে দেই, অবশ্য এটা দেখার পর আপনার হাসি আসতেই পারে কারন এমন সালাদ খান নাই এমন কাউকে পাওয়া যাবে না, এই দেশে, এই বেশে! (আগেও এমন সালাদ আলোচনা হয়েছে!)
পরিমান ও উপকরনঃ
— কয়েকটা টমেটো
– পেঁয়াজ কুঁচি, কয়েকটা
– ধনিয়া পাতার কুঁচি, কয়েক টেবিল চামচ
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ কুঁচি, ঝাল বুঝে
– লবন (লবন প্রথম চোটে কম দিবেন, পরে লাগলে দিবেন)
প্রনালীঃ 

ছবি ১, সব কিছু কুঁচি করে নিন, লবন সহ।

ছবি ২, চামচ দিয়ে মিশিয়ে নিন, হাত দিয়ে মিশালে স্বাদ বাড়ে (!)।

ছবি ৩, ব্যস – এই তো! লবনের কম্বিনেশন ভাল করতে পারলে কোন কথাই চলে না!

ছবি ৪, খিচুড়ি, গরু ভুনা এবং সাথে এই সালাদ! আহ, কি আছে জীবনে।
সবাইকে শুভেচ্ছা। আরো রেসিপি নিয়ে আসছি। সাথে থাকুন।

শীত বা বৃষ্টিতে আমাদের দেশের মানুষের মন একটু ভিন্ন হয়ে যায় বলে আমি মনে করি। এই সময়ে আমাদের দেশের মানুষেরা একটু ভাল খেতে চান! হা হা হা, এই সময়ে ভুনা মাংশের সাথে খিচুড়ি হলে আমাদের দেশের অনেক মানুষের মন চাঙ্গা হয়ে উঠে। আমি নিশ্চিত, আপনারা কি বলেন!
আজ আপনাদের এমনি একটা মজাদার খিচুড়ি রান্না দেখাবো, অবশ্য এমন খিচুরি রান্না আগেও অনেক দেখিয়েছি। তবে আজকের রান্নার ডাল মিশ্রনে একটা ভিন্নতা আছে, মুগ এবং মুশরী ডাল মিশিয়ে এই রান্না হয়েছে। খেতে ও দেখতে অনেক মজাদার হয়েছে।
গল্প করার আর সময় নেই, আজকাল সময় হাতে পাচ্ছি না। চার পাশ থেকে সবাই কেমন যেন গলা টিপে মেরে ফেলতে চায়! সামান্য সুযোগ বা সময় দিতেও সবাই কার্পন্য করছে! যেখানেই যাচ্ছি ঝগড়া ঝাটি বা কেচ্ছাকাহিনী, শান্তি নেই একদন্ড। নিজের মত করে সময় না পেলে কি আর গল্প লিখা যায়। মোট কথা, গল্প লিখতে যে ভাবনার বা সময়ের দরকার তা আর পারছি না। মরে গেলেও হয়ত এই কথা অনেকেই বুঝাতে পারবো না! এই তো দুনিয়া, দুই দিনের বটেই তবুও আমাদের ভাবখানা এমন যে, ‘ছাইর‍্যা কথা কমু না! দেইখ্যা লমু!’
যাই হোক, চলুন আমাদের রেসিপি দেখে নেই। খুব সহজ এবং সাধারন রান্না।
পরিমান ও উপকরনঃ (৬/৭ জনের জন্য)
— চিকন চাল, ৭৫০ গ্রাম
– মুগ ডাল, ২৫০ গ্রাম
– মুশরী ডাল, ২৫০ গ্রাম
– পেঁয়াজ কুঁচি, কয়েকটা
– আদা বাটা, ১ টেবিল চামচ
– রসুন বাটা, ১ চা চামচ
– গুড়া লাল মরিচ, হাফ চা চামচ
– গুড়া হলুদ, এক চা চামচের কিছু কম (যারা খিচুড়ি একটু বেশী হলদে করতে চান তারা একটা বেশী দিতে পারেন)
– এলাচি, কয়েকটা
– দারুচিনি, কয়েক পিস
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ কুঁচি, ঝাল বুঝে
– লবন (লবন প্রথম চোটে কম দিবেন, পরে লাগলে দিবেন)
– তেল, পনে এক কাপ বা এক কাপ
– পানি, পরিমান মত
প্রনালীঃ 
চাল ডালের মিশ্রনঃ

মুগ ডাল সামান্য ভেজে নিয়ে পানিতে ধুয়ে ফেলুন এবং চাল ও মুশরী ডালের সাথে মিশিয়ে নিন।

চাল ও ডাল গুলো মিশিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন এবং এর পর মুল রান্নায় নেমে পড়ুন।
মুল রান্নাঃ

ছবি ১, তেল গরম করে তাতে এলাচি ও দারুচিনি দিন।

ছবি ২, এবার পেঁয়াজ কুঁচি ও কাঁচা মরিচ দিন। (কাঁচা মরিচ তেলে ফুটে উঠে তাই সাবধানে বা চিরে দিতে পারেন)

ছবি ৩, এবার আদা, রসুন, মরিচ গুড়া ও হলুদ গুড়া দিয়ে দিন। এই সময়ে এক চা চামচ লবন দিন। (রঙ বেশি কড়া চাইলে সামান্য হলুদ বেশি দিতে পারেন)

ছবি ৪, ভাল করে ভেজে নিন। ঘ্রান বের হবে।

ছবি ৫, এবার চাল ডাল দিয়ে দিন।

ছবি ৬, ভাল করে ভেজে নিন।

ছবি ৭, এবার পানি দিন।

ছবি ৮, পানি চালের দেয় ইঞ্চি উপরে হতে হবে এবং এই সময়ে ফাইন্যাল লবন দেখুন। পানি কটা হতে হবে, লাগলে আরো লবন দিন। (নুতন চালের ক্ষেত্রে পানি কম লাগে)

ছবি ৯, এবার ঢাকনা দিয়ে দিন,আগুন মাধ্যম আঁচে থাকবে।

ছবি ১০, মাঝে মাঝে দেখে নিতে পারেন, না দেখেও মিনিট ১৫ পরে দেখলেও চলে।

ছবি ১১, এই অবস্থায় এসে যাবে। এবার নাড়িয়ে দিতে পারেন।

ছবি ১২, এবার দেশি কায়দায় দম দিতে পারেন। (পাতিলের তলায় আসলে একটা লোহার খোলা বসিয়ে দিতে পারেন, এতে আগুন কম লাগবে এবং আস্তে আস্তে হয়ে যাবে)

ছবি ১৩, ঠিক এমনি হয়ে যাবে। যদি দেখেন চাল শক্ত আছে তবে পানির ছিটা দিয়ে আবারো ঢাকনা দিয়ে রাখুন কিছু সময়ে আর যদি দেখেন নরম হয়ে যাচ্ছে, সাথে সাথে ঢাকনা খুলে ভাল করে নাড়িয়ে দিন। (এই ধরনের রান্না ছড়িয়ে চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না।)

ছবি ১৪, ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।

ছবি ১৫, অপূর্ব, অসাধারন। দুই পদের ডালের মিশ্রন খিচুড়ি সত্যি মজাদার। বিশেষ করে মুগ ডালের মৌ মৌ ঘ্রান, আমাদের দেশীদের খেতে পাগল করে তুলবেই!
বছরের বিশেষ যে কোন দিনে এমন খিচুড়ি রান্না করতে পারেন, তেমন আর কি কাজ! সবাইকে শুভেচ্ছা।
কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন
Powered by Blogger.